নতুন যারা ৪৩ তম বিসিএস লিখিত দিবেন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

 নতুন যারা ৪৩ তম বিসিএস লিখিত দিবেন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা-


১. এডমিট কার্ড ২-৩ কপি প্রিন্ট করে রাখুন। এক্সাম হলে যাওয়ার আগে এডমিট কার্ড খুঁজে না পাওয়াটা অনেকের একটি কমন রোগ।


২. ৬-৭ টা নতুন কলম কিছুক্ষণ আঁকিবুকি করে ফ্রি করুন। এক্সাম হলে গিয়ে যেন কলমের স্মুথনেস আনতে সময় নষ্ট না হয়। 


৩. ফাইল গুছিয়ে নিজের পড়ার টেবিলের উপর রাখুন। কয়েকটা কালো কলম, দুইটা নীল, একটা পেন্সিল,ইরেজার,শার্পনার।  স্কেল নিতে পারেন একটা। যদিও পিএসসি ৪০,৪১ তম তে রোল করা পেপার দিয়েছিলো।


৪. অনেকে নীল না নিয়ে সবুজ কলম নিয়ে যান। পিএসসি’র নির্দেশনা অনুসারে কালো ছাড়া শুধু নীল কলম ব্যবহারের অনুমতি আছে,সবুজ নয়। 


৫. অবশ্যই পকেটে বা ফাইলে মাস্ক নিয়ে যাবেন। এক্সাম হলে ঢোকার সময় যেন মাস্ক খুঁজতে না হয়।

(যারা মাস্ক কম পড়তে অভ্যস্ত,তাদের জন্য)


৬. এত পড়ার পরও দেখবেন কিছু টপিক এখনো টাচ করাই হয়নি। ছেড়ে দিন সেগুলো। যা পড়েছেন তা হালকা চোখ বুলান। কারণ পরীক্ষার পড়া শেষ হয় সাধারণত পরীক্ষা শেষ হলে। আগে কখনোই নয়।


এবার পরীক্ষার  ভেতরের কিছু কথা-


১. ভার্সিটির পরীক্ষার মত খাতা দেওয়ার ৫ মিনিট আগে বা পরে ঢুকার অভ্যেস থাকলে বিপদে পড়বেন। মিনিমাম চল্লিশ মিনিট আগে হলের সামনে হাজির হওয়া উত্তম।


২.খাতা পাওয়ার সাথে সাথে প্রথম কাজ হবে পুরো খাতার প্রতিটা পৃষ্ঠা চেক করে দেখা। পৃষ্ঠা সংখ্যা ঠিক আছে কিনা, কোন পৃষ্ঠা ছেঁড়া আছে কিনা দেখতে হবে। কোন সমস্যা থাকলে সাথে সাথে খাতাটা চেইঞ্জ করে নিবেন।


৩ এক্সামের হাইপারে অনেকেই ওএমআর পেপারে কোড লিখতে ভুল করেন। শান্তভাবে পূরণ করুন পেপার। ছোট্ট ভুলের জন্য আপনার পুরো খাতাটা বাতিল হতে পারে। 


৪. ওএমআর পূরণে ভুল করলে ভয় পেয়ে বসে থাকবেন না। দাঁড়িয়ে সাথে সাথে দায়িত্বরত শিক্ষককে অবহিত করবেন। উনি খাতা চেইঞ্জ করে দিবেন।


খাতার লেখা সংক্রান্ত নির্দেশনা-


১. লেখা সুন্দর হোক বা না হোক, পরিচ্ছন্ন যেন হয়। অতিরিক্ত কাঁটাছেড়া যেন না হয়। সুন্দর হাতের লেখার চেয়ে পরিচ্ছন্নতা অধিক জরুরি।


২.  টাইম ম্যানেজমেন্ট সমস্যায় ভুগেন অনেকেই। সেটা নিজেই ফিক্সড করুন এখন বসে। কোন প্রশ্নের জন্য কত মিনিট বরাদ্দ রাখবেন, সেটা এক্সামের আগে ঠিক করে যাওয়া জরুরি। 


৩. টাইম ম্যানেজমেন্ট এমনভাবে করবেন যেন প্রতিটা প্রশ্ন টাচ করে আসা যায়। 


৪. আনকমন প্রশ্নও শুধুমাত্র ২-৩ টা ছোট তথ্য জানা থাকলে মোটামুটি ভালো ভাবেই লেখা যায়। শুধু তার সাথে রিলেটেড অন্য টপিকের তথ্য সংযোজন করে।


৫. যারা নীল কালি ব্যবহার করবেন তারা শুধুমাত্র কোটেশন আর পয়েন্টের নামে নীল কালি ব্যবহার করবেন। অনেককে দেখেছি এত বেশি নীল কালি ইউজ করেন যে,খাতায় কালো লেখার অস্তিত্ব খুঁজে পেতে কষ্ট হয়ে যায়।


৬. আপনি যা জানেন তার ৫০% ও এক্সাম হলে ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই এমবেডেড এন্সার করার চেষ্টা করবেন। শীট বা নোট থেকে যা শিখেছেন তা নয় শুধু। একটা তথ্য অনেকগুলো প্রশ্নে ব্যবহার করা যায় ইজিলি। আনকমন প্রশ্ন আসলে না ঘাবড়িয়ে জানা তথ্যের সাথে এটার লিংক করার চেষ্টা করুন।


৭. লিখিত এক্সাম হলে ঢোকার আগেই সকল প্রাকৃতিক কর্ম সেরে ঢুকবেন। ভার্সিটি এক্সামের মাঝখানে টয়লেটে যাওয়া অনেকেরই প্রিয় কাজ ছিলো। ওইখানে চিপায়-চাপায় শীট রাখা যেতো বলে।  


৮. এক্সট্রা পেপার নিলে সেটার জন্য বৃত্ত ভরাট করতে হয় ওএমআর এ। যেটা অনেকেই করতে ভুলে যান লেখার তাড়াহুড়ায়। বৃত্ত ভরাট না করা হলে আপনার এক্সট্রা পেপার/লুজ শীট খাতার অংশ নয় বলে গণ্য করা হবে৷ তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।


৯. ওএমআর পেপারের নির্দিষ্ট অংশ এক্সাম শেষ হওয়ার ১০-১৫ মিনিট আগে কর্তব্যরত শিক্ষক নিয়ে নিবেন। সেটা দেওয়ার আগে ওএমআরটা আরেকবার চেক করে নিবেন। এক্সট্রা পেইজের জন্য বৃত্ত ভরাট করেছেন কিনা চেক করার জন্য। 


পড়াশুনার যা করার অনেক করেছেন কয়েক মাসে।

অগ্রজ হিসেবে অনুজদের জন্য কিছু আপাত সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।  

ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে💝

শুভকামনা রইলো সকল লিখিতযোদ্ধাদের জন্য।

✍️✍️

মুহাম্মদ রাকিব উদ্দীন মিনহাজ 

৪০ তম বিসিএস (শিক্ষা)

উপসহকারী পরিচালক,দুর্নীতি দমন কমিশন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url