ডি-৮ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলো; কী আলোচনা হলো

ডি-৮ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষ হলো; কী আলোচনা হলো এবারের সম্মেলনে বা কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পেলো?


উন্নয়নশীল ৮ টি মুসলিম দেশের সংগঠন হলো ডি-৮ বা ডেভেলপিং এইট। ২০২২ সালের ২০ তম মন্ত্রী পর্যায়ের ডি-৮ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল - নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের আকার বাড়ানো। ডি-৮ এর ২০ তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায় (২৬-২৭ জুলাই) এবং আয়োজক দেশ ছিল বাংলাদেশ। আজারবাইজান ডি-৮ এ যুক্ত হওয়ার আবেদন করেছে। যদি যুক্ত হয় তবে ডি-৯ এ পরিনত হবে সংস্থাটি।


ডি-৮ কেন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোন কোন দেশ এর সদস্য? 


ডি-৮ হলো মুসলিম রাষ্ট্রের একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন জোট। এই সংস্থাটির সদরদপ্তর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। ১৯৯৬ সালে গঠিত হয় এই সংস্থাটি এবং ১৯৯৭ সালে ১ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মূলত ১৯৯৭ সালের ১৫ জুন তারিখে ইস্তাম্বুল ঘোষণার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। ডি-৮ এর বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনা। আবারো এক বছরের জন্য ডি-৮ এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।  ডি-৮ প্রতিষ্ঠিত হয় বেশ কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়ে - উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নতি সাধন করা, বিশ্ব অর্থনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও সুবিধা বৃদ্ধি করা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও মানসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করা। এটি ব্যাংকিং, গ্রাম্য উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মানবকল্যাণ ও মানবাধিকার, কৃষি, জ্বালানি ও পরিবেশ এবং স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। 


১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু হওয়া এই সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্র ৮ টি। এখানে রয়েছে - বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক। 


কী আলোচনা হলো এবারের সম্মেলনে বা কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পেলো?


এবারের সম্মেলনে টা এমন একটা সময়ে হয়েছে যখন চলছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পুরো বিশ্ব কে নাড়া দিয়েছে, দেশে দেশে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি সমস্যা। এবারের সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল - নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের আকার বাড়ানো। এবারের সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ৬ টি - বাণিজ্য, কৃষি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও পর্যটন নিরাপত্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, পরিবহন, যোগাযোগ। এ সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পায় আজারবাইজানের ডি-৮ এ যোগদান এবং বাণিজ্য বাড়ানো। আগামী ৫ বছরে ৫০০ বিলিয়ন আন্তঃবাণিজ্যের লক্ষ্য নির্ধারন করা হয়েছে এ সম্মেলনে। এছাড়া, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়। সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সংকট দূরীকরণের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে ইরান, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। বাংলাদেশও বর্তমানে জ্বালানি সংকট চলছে অর্থাৎ জ্বালানি সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশও অনুভব করছে, বাড়ছে জ্বালানির দাম। ইরান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া জ্বালানি রপ্তানিতে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই ডি-৮ ভুক্ত দেশগুলো তে সংকট দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারে ইরান, নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ইরানের উপর রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, কাজেই এখানে একটা বাধা থাকবে। নাইজেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া হতে পারে বর্তমানে জ্বালানি সংকট দূরীকরণের জন্য অন্যতম শক্তি। যদি এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি এবং সমঝোতা সম্ভব হয় তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাওয়া যাবে, আর এ চেষ্টা চলছে। মোটকথা, বৈশ্বিক সংকট এবং বাণিজ্যের প্রসার ছিল এবারের মূল আলোচনা। আর আজারবাইজানের ডি-৮ এ যুক্ত হওয়ার বিষয়ও আলোচনা হয়েছে এবং এই দেশটি যুক্ত হলে ডি-৮ হতে যাচ্ছে ডি-৯ নামক সংস্থা। 


✍️ মোঃ আসাদুল আমীন 

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url