ব্যাংকের ৯ম ও ১০ম গ্রেডের চাকরির লিখিত প্রস্তুতি

 বাংলাদেশ* ব্যাংকের* সহকারী* পরিচালক* ও অন্যান্য ব্যাংকের ৯ম ও ১০ম গ্রেডের চাকরির লিখিত প্রস্তুতি প্রসঙ্গে

রিটেনের জন্য প্রস্তুতি ও বইয়ের তালিকা- কী ও কীভাবে পড়বো?

বাংলাদেশ ব্যাংক হোক বা সমন্বিত/রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরীক্ষা- রিটেন হয়ে থাকে ২০০ নম্বরে। এবং এই প্রশ্নের সিলেবাস ও মানবণ্টন এত বেশি পরিবর্তনশীল যে, এটা নিয়ে প্রায় প্রতিটি লিখিত পরীক্ষা শেষেই ফেসবুক সরগরম থাকে। তারপরেও একটা ধারণা করা যায় যে কি কি আসতে পারে।


১। ফোকাস রাইটিং/এসে রাইটিংঃ ফোকাস বা এসে(রচনা) রাইটিং থাকে ২ টি সাধারণত- একটি বাংলা, একটি ইংরেজি। এবং এখানেই অনেকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়ে ব্যর্থতার শিকার হন। একটি ফোকাস রাইটিং এর অর্থ হল কোন একটা বিষয়কে ফোকাসে রেখে লিখা- যা করতে অনেকেই ব্যর্থ হন। প্রয়োজনীয় টপিকের বাইরে অপ্রাসঙ্গিক লেখা এখানে লিখলে নম্বর কমতে থাকে। এতে ২৫-৩৫ করে নম্বর থাকে, প্রতিটিতে। এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিচ্ছিঃ


ক) ফোকাস রাইটিং এ ইণ্ট্রোডাকশন আর কনক্লুশন নামে কোন প্যারার নাম ব্যবহার করবেন না।

খ) খাতায় দুটি প্যারার মাঝে যথেষ্ট গ্যাপ রাখবেন। যাতে এক্সামিনার খাতা দেখতে বিরক্ত না হন। পেইজ গুণে লিখা বাদ দিন।

গ) বানান ভুল আর ব্যাকরণগত ভুল একদম করা যাবে না। খুব কঠিন আর অলংকরণসমৃদ্ধ কিছু না লিখে ব্যাসিক স্ট্রাকচার ঠিক রাখায় আগে গুরুত্ব দিন।

ঘ) ওই যে প্রিলি অংশের ইংরেজিতে টার্মস শিখতে বলেছি, সুযোগ বুঝে সেই ভোকাবুলারিগুলো প্রাসঙ্গিকভাবে ব্যবহার করুন।

ঙ) কমপক্ষে ১/২ টা কোটেশন দিন। এবং কিছু কমন কোটেশন, যা সব লিখায় ব্যবহার করা যায়- শিখে রাখুন। পরিবেশগত, উন্নয়ন, অর্থনীতি- সব কিছুর জন্য কমন কিছু কোটেশন রেডি রাখুন। এমন কিছু আলু কোটেশন আছে, যা সব ফোকাসেই আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। 

চ) ড্যাটা দশমিকে না লিখে রাউন্ড ফিগারে শিখুন। যেমন, যদি আমাদের রিজার্ভ ৪৪.১২ বিলিয়ন ডলার হয়, ৪৪ বিলিয়ন লিখবেন। এতে বেশি ড্যাটা মনে রাখতে পারবেন।

ছ) বিবিএস, বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট, সমীক্ষা আর বাজেট ছাড়া অন্য কোন ড্যাটা ব্যবহার নিষ্প্রয়োজন। ব্যাখ্যামূলক আর যুক্তিবহুল আলোচনা না করে সংখ্যার পর সংখ্যা লিখলে এক্সামিনাররা বিরক্ত হন। 

জ) লিখার শেষে তথ্যসূত্র ব্যবহার করতে পারলে আরো ভালো হবে। তথ্যসূত্র হিসেবে বিবিসি, প্রথম আলো, বিবিএস, সমীক্ষা, বাজেট- এসব ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, উইকিপিডিয়া হল একটা কালেকশন অফ আনচেকড ওয়েবসাইট সাইটেশন্স, সেটা কোন নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

ঝ) আর্গুমেন্ট রাইটিং আসলে যে কোন একপক্ষে থেকে সমালোচনা করুন। কিন্তু উপসংহারের আগে বিরোধী স্টেটমেন্টের পক্ষেও সামান্য সাফাই গাইবেন।

ঞ) ইংরেজি ফোকাসের ক্ষেত্রেও গ্রামার আর বানান প্রধান গুরুত্ব। এর পাশাপাশি বাক্যের সাবজেক্ট-ভার্ব এগ্রিমেন্ট, কন্ডিশনালস, ভয়েস, ন্যারেশন, ডিগ্রী, টেন্স এসব জিনিস ঠিকঠাক আছে নাকি- ভালোভাবে চেক করুন। সম্পূর্ণ প্যাসেজ যেন এক টেন্স এ লিখা হয়- এটা ফলো আপে রাখা জরুরি। 


ফোকাসের জন্য প্রতিমাসের মহিদস সম্পাদকীয় পড়ুন। কারেন্ট এফেয়ার্সের মতই, বাজারে মাসে মাসে বের হয়। পাশাপাশি ইন্টারনেট ঘাঁটুন, কারণ পরীক্ষার আগের ১৫-৩০ দিনের ভেতর ঘটে যাওয়া ঘটনাই ফোকাসের জ্বালানি। এরপরেও রেডিমেড ড্যাটা লাগলে বাজারের কোন গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। ইউনিক, লতিফুর, ইউসুফ সহ নানা রকম গাইডই বাজারে আছে।


২। গণিত অংশঃ ৫-৭ টি ম্যাথ আসে পরীক্ষায়। বর্তমানে সেট থিওরি, পরিমিতি, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পার্টনারশিপ, টাইম এন্ড ওয়ার্ক, টাইম এন্ড স্পিড, নাম্বার সিস্টেমস, শতকরা, বিন্যাস সমাবেশ ও সম্ভাব্যতা থেকে প্রায় প্রতি পরীক্ষাতেই ম্যাথ আসছে। অন্যান্য সব চ্যাপ্টারের পাশাপাশি এগুলোতে বেশি সময় দিন। বাকিটা প্রিলি অংশেই বর্ণনা করেছি- প্রিলি আর রিটেনের ম্যাথ প্রস্তুতি একসাথে নিন। 


৩। ট্রান্সলেশনঃ একটি বাংলা থেকে ইংরেজি ও একটা ইংরেজি থেকে বাংলা ট্রান্সলেশন পরীক্ষায় থাকে। প্যাসেজ আকারে। এই ট্রান্সলেশনগুলো প্র্যাকটিস করতে পারেন মহিদস সম্পাদকীয় থেকেই। এর পাশাপাশি সাইফুর্স ট্রান্সলেশন বইটি অনুসরণ করতে পারেন। নম্বর থাকে ১৫/২০ করে প্রতিটি।


৪। কম্প্রিহেনশনঃ কম্প্রিহেনশন পড়ে সেখান থেকে ৪/৫ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। নম্বর থাকে সব মিলিয়ে ২০। প্রথমে প্যাসেজ না পড়ে প্রশ্ন পড়ে নিলে প্যাসেজ থেকে উত্তর করা সহজ হয়। প্যাসেজের থেকে সরাসরি কোন কিছু তুলে দেয়া যাবে না। নিজস্ব গ্রামার ও প্যাটার্নে উত্তর লিখতে হবে। প্রতিদিন ডেইলি স্টার পড়া আপনার সেই রিডিং এবং আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্কিল বৃদ্ধি করবে।


৫। সামারিঃ সামারি বা প্রেসিস জাতীয় কিছু থাকাটা ইদানিং প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। ১৫ মার্কে থাকা এই জিনিসের জন্য প্যাসেজটা পড়ে নিবেন। নম্বর ১৫ হোক বা ১৫০, প্যাসেজের ৩ ভাগের একভাগ হবে সামারির সর্বোচ্চ আকার। ৩ লাইনে লিখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। সামারিতে টাইটেল থাকবে না, প্রেসিসে থাকবে। 


৬। চিঠিপত্রঃ যে কোন বাংলা/ইংরেজি ব্যাংকিং/বিজনেস লেটার দেখে যাবেন। যদিও ইদানিং আসছে না। কোন লেটারের ফরম্যাট কি, কোনটায় প্যাড ব্যবহার হবে- ভালো করে লক্ষ্য রাখবেন। রিটেন প্রশ্নব্যাংকেই যথেষ্ট নমুনা রয়েছে। 


৭। সাধারণ জ্ঞানঃ সারপ্রাইজ! এখানেও জিকে আপনার পিছু ছাড়বে না। ২ বা ৩ করে ১০ টি সাধারণ জ্ঞান (এক কথার) প্রশ্ন ইদানিং ব্যাংকে আসতে দেখা যাচ্ছে। এই প্রশ্নগুলোর জন্য বিগত ৩ মাসের সকল সাধারণ জ্ঞানের সাথে ফলো আপে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে কারেন্ট এফেয়ার্স যথেষ্ট। পাশাপাশি ব্যাংকিং টার্মস, বাংলাদেশের নানা ব্যাংক, নানা দেশের মুদ্রা ও সেন্ট্রাল ব্যাংক, রিসেন্ট সকল বই, তাদের লেখক, নানা খেলাধুলার ইভেন্ট কই ও কবে, দেশের নানা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি- ইত্যাদি জিনিস নিয়ে ভালোভাবে পড়াশুনা করে যাওয়ার পরামর্শ রইলো। ব্যাংকিং নানা টার্মের জন্য “ক্র্যাক দ্য ব্যাংক ভাইভা” বইটা কিনে পড়ে ফেলতে পারেন। কাজে দিবে। 


আজ এ পর্যন্তই সুদীর্ঘ প্রথম পর্ব শেষ করছি। আগামী পর্বে কীভাবে ব্যাংক ও বিসিএস এর পড়া মিল করে একত্রে পড়া যায়, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের সাথে আর্টস-কমার্সের প্রিপারেশনের পার্থক্য কি ধরণের এবং কি কি হবে, প্রস্তুতির জন্য মনস্তাত্বিক দিকগুলো কি কি, পরীক্ষা কেন্দ্রে মেন্টাল সেট আপ কেমন হওয়া উচিত, খাতায় পরিবেশন এবং সময় বরাদ্দ কীভাবে ও কতটুকু হবে, জব প্রিপারেশন নিয়ে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা (ব্লেইম গেমিং, কাটমার্ক্স ফ্যালাসি, কতক্ষণ পড়তে হবে দিনে, কোথায় আমরা ভুল করছি প্রিপারেশন নিতে গিয়ে ইত্যাদি) এসব নিয়ে আলোচনা করবো- যা মূলত কেউ করে বলে আমার জানা নেই। 


সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

✍️✍️✍️

নওরোজ কোরেশী দীপ্ত

সহকারী পরিচালক (সুপারিশপ্রাপ্ত),

বাংলাদেশ ব্যাংক,

মেধাক্রম- ৩৪।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url